Archive for the ‘Rabindra Sangeet(রবীন্দ্রসঙ্গীত)’ Category

 

 

শিরোনামঃ কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার
রবীন্দ্রসঙ্গীত

 

 

কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা মনে মনে।
মেলে দিলেম গানের সুরের এই ডানা মনে মনে।
তেপান্তরের পাথার পেরোই রূপ-কথার,
পথ ভুলে যাই দূর পারে সেই চুপ্‌-কথার–
পারুলবনের চম্পারে মোর হয় জানা মনে মনে।।
সূর্য যখন অস্তে পড়ে ঢুলি মেঘে মেঘে আকাশ-কুসুম তুলি।
সাত সাগরের ফেনায় ফেনায় মিশে
আমি যাই ভেসে দূর দিশে–
পরীর দেশের বন্ধ দুয়ার দিই হানা মনে মনে।

Advertisements

 

 

শিরোনামঃ আমি চিনি গো চিনি তোমারে
রবীন্দ্রসঙ্গীত

রাগ: খাম্বাজ
তাল: একতাল
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): ২৫ আশ্বিন, ১৩০২
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): ১৮৯৫
রচনাস্থান: শিলাইদহ
স্বরলিপিকার: দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর, সরলা দেবী

 
আমি      চিনি গো চিনি    তোমারে ওগো বিদেশিনী।

তুমি      থাক সিন্ধুপারে    ওগো বিদেশিনী॥

তোমায়  দেখেছি শারদপ্রাতে,    তোমায়    দেখেছি মাধবী রাতে,

তোমায়  দেখেছি হৃদি-মাঝারে    ওগো বিদেশিনী।

আমি     আকাশে পাতিয়া কান    শুনেছি    শুনেছি তোমারি গান,

আমি     তোমারে সঁপেছি প্রাণ    ওগো বিদেশিনী।

ভুবন ভ্রমিয়া শেষে       আমি      এসেছি নূতন দেশে,

আমি    অতিথি তোমারি দ্বারে    ওগো বিদেশিনী॥

http://tagoreweb.in/

 

 

 

শিরোনামঃ এসো, এসো, এসো হে বৈশাখ
রবীন্দ্রসঙ্গীত

 

এসো, এসো, এসো হে বৈশাখ
তাপসনিশ্বাসবায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে,
বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক
যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক ভুলে যাওয়া গীতি,
অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক।
মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা,
অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা
রসের আবেশরাশি শুষ্ক করি দাও আসি,
আনো আনো আনো তব প্রলয়ের শাঁখ
মায়ার কুজ্ঝটিজাল যাক দূরে যাক।

 

 

 

শিরোনামঃ যখন পড়বে না মোর
রবীন্দ্রসঙ্গীত

 

যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে,
আমি বাইব না মোর খেয়াতরী এই ঘাটে,
চুকিয়ে দেব বেচা কেনা,
মিটিয়ে দেব গো, মিটিয়ে দেব লেনা দেনা,
বন্ধ হবে আনাগোনা এই হাটে–
তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে,
তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাইবা আমায় ডাকলে।

যখন জমবে ধুলা তানপুরাটার তারগুলায়,
কাঁটালতা উঠবে ঘরের দ্বারগুলায়, আহা,
ফুলের বাগান ঘন ঘাসের পরবে সজ্জা বনবাসের,
শ্যাওলা এসে ঘিরবে দিঘির ধারগুলায়–
তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে,
তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাইবা আমায় ডাকলে।

তখন এমনি করেই বাজবে বাঁশি এই নাটে,
কাটবে দিন কাটবে, কাটবে গো দিন আজও যেমন দিন কাটে, আহা,
ঘাটে ঘাটে খেয়ার তরী এমনি সে দিন উঠবে ভরি–
চরবে গোরু খেলবে রাখাল ওই মাঠে।
তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে,
তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাইবা আমায় ডাকলে।

তখন কে বলে গো সেই প্রভাতে নেই আমি।
সকল খেলায় করবে খেলা এই আমি– আহা,
নতুন নামে ডাকবে মোরে, বাঁধবে নতুন বাহু-
ডোরে,
আসব যাব চিরদিনের সেই আমি।
তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে,
তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাইবা আমায় ডাকলে।

 

 

শিরোনামঃ কে রঙ লাগালে বনে বনে
রবীন্দ্রসঙ্গীত

 

 

কে          রঙ লাগালে বনে বনে।
ঢেউ জাগালে সমীরণে॥
আজ ভুবনের দুয়ার খোলা   দোল দিয়েছে বনের দোলা–
দে দোল! দে দোল! দে দোল!
কোন্‌ ভোলা সে ভাবে-ভোলা   খেলায় প্রাঙ্গণে॥
আন্‌ বাঁশি– আন্‌ রে তোর আন্‌ রে বাঁশি,
উঠল সুর উচ্ছ্বাসি   ফাগুন-বাতাসে।
আজ   দে ছড়িয়ে ছড়িয়ে   শেষ বেলাকার কান্না হাসি–
সন্ধ্যাকাশের বুক-ফাটা সুর   বিদায়-রাতি করবে মধুর,
মাতল আজি অস্তসাগর সুরের প্লাবনে॥

 

 

শিরোনামঃ গ্রামছাড়া ওই রাঙা মাটির পথ
রবীন্দ্রসঙ্গীত

 

গ্রামছাড়া ওই রাঙা মাটির পথ আমার মন ভুলায় রে।
ওরে কার পানে মন হাত বাড়িয়ে লুটিয়ে যায় ধুলায় রে।।
ওযে আমায় ঘরের বাহির করে, পায়ে-পায়ে পায়ে ধরে-
ওযে কেড়ে আমায় নিয়ে যায় রে যায় রে কোন্‌ চুলায় রে।
ওযে কোন্‌ বাঁকে কী ধন দেখাবে, কোন্‌খানে কী দায় ঠেকাবে-
কোথায় গিয়ে শেষ মেলে যে ভেবেই না কুলায় রে।।

 

 

শিরোনামঃ আমার সোনার বাংলা
গীতিকারঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সুরকারঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 

 

আমার সোনার বাংলা,
আমি তোমায় ভালবাসি।
চিরদিন তোমার আকাশ,
তোমার বাতাস,
আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি।।

ও মা,
ফাগুনে তোর আমের বনে
ঘ্রাণে পাগল করে,
মরি হায়, হায় রে-
ও মা,
অঘ্রানে তোর ভরা ক্ষেতে
আমি কী দেখেছি মধুর হাসি।।

কী শোভা, কী ছায়া গো,
কী স্নেহ, কী মায়া গো-
কী আঁচল বিছায়েছ
বটের মূলে,
নদীর কূলে কূলে।

মা, তোর মুখের বাণী
আমার কানে লাগে
সুধার মতো,
মরি হায়, হায় রে-
মা, তোর বদনখানি মলিন হলে
ও মা,
আমি নয়ন জলে ভাসি।।